Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

জাল নোট কাছে রাখলে ৭ বছরের জেল, আসছে নতুন আইন

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই,২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
জাল নোট কাছে রাখলে ৭ বছরের জেল, আসছে নতুন আইন

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে জাল নোট তৈরির নিত্যনতুন কৌশলের কাছে মার খাচ্ছে প্রচলিত আইন। ফলে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যাংক কর্মকর্তারা। এই জালিয়াতি রুখতে এবং পুরো অপরাধী চক্রকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে এবার কঠোর ও আধুনিক আইনি কাঠামো আনছে সরকার। নতুন আইনে শুধু জাল নোট তৈরি বা ব্যবসাই নয়, জেনেশুনে নিজের কাছে জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। আট পৃষ্ঠার এই খসড়াটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামতের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি জনসাধারণের উন্মুক্ত মতামতের জন্য ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব সচিব নাজমা মোবারেক জানান, সবার মতামত গ্রহণ শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে এবং দ্রুতই তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

বর্তমানে জাল মুদ্রাসংক্রান্ত অপরাধের বিচার দণ্ডবিধিসহ কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন আইনে ছড়িয়ে থাকায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। নতুন আইনে সব ধরনের অপরাধকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। জেনেশুনে জাল নোট নিজের কাছে রাখা বা লেনদেন করার পাশাপাশি জাল নোট তৈরি, তৈরির চেষ্টা, বিশেষ কাগজ-কালি বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংগ্রহ, আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ—সবই এই আইনের অধীনে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রস্তাবিত আইনে শুধু সম্পূর্ণ নকল নোটই নয়, আসল নোটের রাসায়নিক বা অন্য কোনো উপায়ে কারসাজি করাকেও অপরাধের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। খসড়ায় তিন ধরনের জালিয়াতিকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে— আসল নোটের মূল্যমান বা নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা (টেম্পার্ড), রাসায়নিক ব্যবহার করে নোটের মূল ছাপ মুছে নতুনভাবে মুদ্রণ করা (ব্লিচড) এবং বিভিন্ন আসল বা নকল নোটের টুকরো অংশ জোড়া দিয়ে তৈরি করা মুদ্রা (মিসম্যাচড)। এই স্পষ্ট সংজ্ঞার ফলে আগে আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে যাওয়ার যে সুযোগ ছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ‘কারেন্সি অফিসার’ সন্দেহজনক নোট পরীক্ষা করে আদালতে যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন দেবেন, তা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন আইনের অধিকাংশ অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশ সরাসরি মামলা ও তদন্ত করতে পারবে। এছাড়া শুধু জাল নোট উদ্ধারই নয়, এটি তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, উচ্চ ক্ষমতার রঙিন প্রিন্টার, বিশেষ কাগজ ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আদালতকে। এতে চক্রগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থাই পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল নোট তৈরির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এমনকি ২০২৩ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও জাল নোটের কারবার চালাচ্ছে অপরাধীরা। র‍্যাব, সিআইডি, ডিবি ও বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে প্রতিবছরই বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে কোটি কোটি টাকার জাল নোট ও তৈরির কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। চলতি বছরও কোরবানির ঈদ সামনে রেখে টঙ্গী ও গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে ডিএমপির ডিবি। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানেই ২০১৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা, পশুর হাটে বুথ স্থাপন এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর এবার এই চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)