Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে একটি গুরুতর প্রশ্ন

খবির শিকদার খবির শিকদার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর,২০২৬, ১১:০৯ পিএম
গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে একটি গুরুতর প্রশ্ন

যশোর শহরে গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত প্রশ্ন সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অসুস্থ, দুর্বল বা অস্বাভাবিক কম দামে পাওয়া গরু কিনে এনে রাতের আঁধারে বাসাবাড়ি বা ব্যক্তিগত স্থানে জবাই করে পরদিন সেই মাংস বাজারে বিক্রি করেন।

যদি এমন ঘটনা সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা নয়—এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ পশুটি জবাইয়ের আগে সরকারি বা অনুমোদিত পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না হলে ওই পশু খাদ্য হিসেবে নিরাপদ কি না, তা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে বোঝার কোনো সুযোগ থাকে না।
অসুস্থ পশুর মাংস খেলে খাদ্যবাহিত জীবাণু বা পরজীবীর সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাংস যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রান্না না হলে সালমোনেলা, ই. কোলাইসহ বিভিন্ন জীবাণুজনিত খাদ্যবাহিত অসুস্থতা হতে পারে। তবে কোন রোগ হবে তা নির্ভর করে পশুটির প্রকৃত রোগ, মাংসের দূষণ এবং সংরক্ষণ ও রান্নার পদ্ধতির ওপর।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—যশোর শহরে জবাইয়ের আগে গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কতটা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে হচ্ছে?
কোনো গরু অসুস্থ অবস্থায় জবাই করা হয়েছে কি না, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তাই ভোক্তার নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়।

আরও পড়ুন-

প্রশ্নের ভেতরেই ভবিষ্যতের পথরেখা প্রশ্নের ভেতরেই ভবিষ্যতের পথরেখা

প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি

১. যশোর শহরের সব বৈধ ও অনুমোদিত জবাইস্থল এবং মাংস বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত পরিদর্শন করা।
২. জবাইয়ের আগে গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অসুস্থ পশু শনাক্ত করার ব্যবস্থা কার্যকর করা।
৩. বাসাবাড়ি, গোপন স্থান বা অনুমোদনবিহীন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে গরু জবাই করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
৪. পশু চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অসুস্থ বা সন্দেহজনক পশুর মাংস বাজারজাত করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা।
৫. মাংস সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, নিয়মিত তদারকি করা।
৬. অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ মাংস কেনার বিষয়ে সচেতন করা।

আমরা কাউকে হয়রানি বা ব্যবসা বন্ধের দাবি করছি না। বরং নিরাপদ খাদ্য, ভোক্তার অধিকার এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক নজরদারি চাই।

যশোরবাসীর প্রশ্ন একটাই—আমরা যে মাংস কিনে পরিবারের সন্তানদের খাওয়াচ্ছি, সেটি সত্যিই খাদ্য হিসেবে নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?

সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

লেখক: রাজনীতিক

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)