অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
১০১ শয্যায় উন্নীত অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জামায়াত নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন করে আরও ৫০টি শয্যা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির পর শয্যা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয়রা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অভয়নগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। উপজেলা জামায়াতের আমীর সরদার মো. শরীফ হোসেনের নেতৃত্বে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মহিউল ইসলাম, জামায়াত নেতা শরীফ বেলাল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অভয়নগর শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম বাবুল, পৌর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুজ্জামান এবং আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের প্রতিনিধি আব্দুল মতিন।
সৌজন্য সাক্ষাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও বিদ্যমান বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনাকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব জানান, হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এই শূন্যপদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হলে রোগীদের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।
সাক্ষাতে উপজেলার রাজঘাট এলাকায় অবস্থিত বন্ধ থাকা শ্রমিক হাসপাতালটি স্থানীয়দের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জামায়াত নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যসেবার এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং জনবল সংকট সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যও এই সমস্যাগুলো সমাধানে সচেষ্ট রয়েছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মতে, শিল্পশহর অভয়নগরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দিতে শুধু শয্যা বৃদ্ধি করলেই চলবে না। ১০১ শয্যার এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও জনবল পদায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।