ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ছবি: বাসস
পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে দর্জির দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে হত্যার প্রায় ১৪ বছর পর আলোচিত এ মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আগামী ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে সকালে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দ্রুত শুনানির আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে নির্মম হামলার শিকার হন বিশ্বজিৎ দাস। তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছাত্রলীগের ২১ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটির বিচার শেষে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল আবেদন করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, তারা হলেন রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদার। আর নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু হাইকোর্টের রায়ে খালাস পান। এছাড়া মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর মো. নূরে আলম লিমনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাস পান এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করায় নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি ১১ জন আসামি—খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেনের সাজা বহাল থাকে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ পৃথক আপিল দায়ের করে, যার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এবার নতুন করে আইনি উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।