ক্রীড়া ডেস্ক
সিরিজে ১-০ লিড পেয়ে গেলেন টাইগাররা ছবি: সংগৃহীত
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা রাজকীয়ভাবে করলো বাংলাদেশ। ব্যাটারদের তান্ডব আর নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে কিউইদের দেওয়া ১৮৩ রানের লক্ষ্য অনায়াসেই পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। ১৮ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, ফলে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে ১-০ তে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের সাথে ৪১ রানের জুটির পর লিটন দাসের উইকেট হারালেও পথ হারায়নি দল। তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘুরিয়ে দেন তাওহীদ হৃদয়।
রোজেনিয়রের 'ভিলেন' যখন চেলসির নায়ক
মাত্র ২৭ বলে ৫১ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর এই ঝড়ো ইনিংসে ছিল ২ টি চার ও ৩ টি বিশাল ছক্কার মার। তাঁর স্ট্রাইক রেট (১৮৮.৮৮) নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কোণঠাসা করে দেয়। যোগ্য সঙ্গী হিসেবে শেষদিকে শামীম হোসেন মাত্র ১৩ বলে ৩টি চার ও ২ টি ছক্কার বিনিময়ে খেলেন ৩০ রানের এক ক্যামিও ইনিংস।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামা নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮২ রান সংগ্রহ করে ৬ উইকেট হারিয়ে। সফরকারীদের পক্ষে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে লড়াকু ভূমিকা রাখেন দলের ব্যাটাররা। তবে কিউই বোলাররা এই রান ডিফেন্ড করতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে ১৭তম ওভারে ম্যাথু ফিশারের করা ওভার থেকে ১৭ রান তুলে নিয়ে ম্যাচ এক প্রকার হাতের মুঠোয় নিয়ে আসে বাংলাদেশ।
ম্যাচ সারসংক্ষেপ:
নিউজিল্যান্ড: ১৮২/৬ (২০ ওভার)
বাংলাদেশ: ১৮৩/৪ (১৮ ওভার)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী (১২ বল বাকি থাকতে)
ম্যাচ সেরা: তাওহীদ হৃদয় (৫১* রান)
উল্লেখ্য যে, এই জয়টি ২০২৫ সালের পর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার রেকর্ড হিসেবে নথিবদ্ধ হলো। দুর্দান্ত এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাওহীদ হৃদয় বলেন, "পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল এবং আমি কেবল পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি।"
আগামী দুই দিনের মধ্যেই সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। আত্মবিশ্বাসে টগবগ করতে থাকা বাংলাদেশ কি পারবে সিরিজ নিজেদের করে নিতে? সেটিই এখন দেখার বিষয়।