নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর শাখার হিসাবরক্ষক সেলিম রেজাকে টাকা আদায়ের অজুহাতে ‘সিও’ এনজিওর কর্মকর্তারা অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সময় তাঁর মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, মূল্যবান কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় সিও এনজিওর রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সেলিম রেজা।
সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব দাবি জানান।
যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদহ গ্রামের মো. হায়দার আলীর ছেলে মো. সেলিম রেজা লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর শাখায় দুই বছর হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় গ্রাহকদের কাছে কিছু টাকা অনাদায়ী থেকে যায়, যা আদায় করা সম্ভব হয়নি। এনজিওর পক্ষ থেকে সেই টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়া হতো।
এরই এক পর্যায়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টায় এনজিওটির প্রধান কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক বদরুল আলম, মো. মেহেদী, মো. মিজানুর রহমান, ফয়সাল মাহমুদ শাকিলসহ বহিরাগত আরও ৪-৫ জন ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে হামলা চালান। তাঁকে মারধর করে এবং তাঁর বাবাকে জিম্মি করে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওনা দেখিয়ে ১০০ টাকার দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই করিয়ে নেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরেও অনুরূপভাবে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তাঁর ব্যবহৃত টিভিএস মোটরসাইকেল, মোটরসাইকেলের চাবি ও কাগজপত্র এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদসহ সবকিছু সিও এনজিওর কর্মকর্তারা ছিনিয়ে নেন। এ পরিস্থিতিতে সিও এনজিওর রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম রেজার বাবা হায়দার আলী ও আত্মীয় রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।