L
যশোর সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড ছবি:
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ১০ নম্বর মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। তবে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগীর স্বজন এবং উপস্থিত লোকজনের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্ডের একটি অংশ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুনের সূত্রপাত দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ওয়ার্ডজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও তাদের স্বজনরা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করে। এ সময় হাসপাতালের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এগিয়ে আসেন এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর হাসপাতালের বৈদ্যুতিক লাইন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীরা অবস্থান করলেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে কোনো রোগী, স্বজন কিংবা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়নি। এছাড়া হাসপাতালের কোনো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বা অবকাঠামোরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি এবং রোগীদের সেবা কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি প্রস্তুতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালটিতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। কারণ সামান্য অসতর্কতা বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তবে মঙ্গলবারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ ও উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার কারণে সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্নে চলমান আছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।