Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

দেশ আধুনিক, রাস্তা ‘আদিম’

সাইফুল ইসলাম সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন,২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট : বুধবার, ১০ জুন,২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
দেশ আধুনিক, রাস্তা ‘আদিম’

একদা গ্রামে এরকম রাস্তা ছিল, মানুষ চলতো গরুর গাড়িতে। এখন ইঞ্জিন ভ্যানের যুগে্ও বহাল আছে চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়নে। ছবি: ধ্রুব নিউজ

"বাড়ি থেকে স্কুলের মূল দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। রাস্তা ভালো থাকলে বড়জোর ২০ মিনিটে হেঁটে চলে যাওয়া যেত। কিন্তু রাস্তার কারনে এখন ফুলসারা আর সলুয়া ঘুরে ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন স্কুলে যেতে-আসতেই দুই ঘণ্টার বেশি সময় শেষ হয়ে যায়, ভ্যান ভাড়াও লাগে তিন গুণ।" ক্ষোভ আর ক্লান্তিভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল যশোরের চৌগাছা উপজেলার বাড়ীয়ালী হাউলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সজীব হোসেন।

বাংলাদেশে আধুনিকতার ছোঁয়া যখন চারদিকে, তখন চৌগাছার এই দুই কিলোমিটার সড়কের চিত্র দেখে মনে হতে পারে এ যেন এক 'আদিম' রাস্তা। বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দশপাখিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তানিয়া খাতুনের মতো শত শত শিক্ষার্থীর বই-খাতা কাদায় ভিজে নষ্ট হচ্ছে, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাদের"বাড়ি থেকে স্কুলের মূল দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। রাস্তা ভালো থাকলে বড়জোর ২০ মিনিটে হেঁটে চলে যাওয়া যেত। কিন্তু পিচ উঠে বড় বড় গর্তের কারণে এখন ফুলসারা আর সলুয়া ঘুরে ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন স্কুলে যেতে-আসতেই দুই ঘণ্টার বেশি সময় শেষ হয়ে যায়, ভ্যান ভাড়াও লাগে তিন গুণ।" ক্ষোভ আর ক্লান্তিভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল যশোরের চৌগাছা উপজেলার বাড়ীয়ালী হাউলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সজীব হোসেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশের আধুনিকতার ছোঁয়া যখন চারদিকে, তখন চৌগাছার এই দুই কিলোমিটার সড়কের চিত্র দেখে মনে হতে পারে এ যেন এক 'আদিম' রাস্তা। বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দশপাখিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তানিয়া খাতুনের মতো শত শত শিক্ষার্থীর বই-খাতা কাদায় ভিজে নষ্ট হচ্ছে, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া।

আমাদের চৌগাছা প্রতিনিধি জানান, যাতায়াতের এই চরম ভোগান্তি শুধু শিক্ষাজীবনেই স্থবিরতা আনেনি, কেড়ে নিয়েছে ন্যূনতম জরুরি চিকিৎসাসেবাও। স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদা বেগম জানান, রাস্তাটি এতটাই ভাঙা যে সাধারণ কোনো যানবাহন এই পথে চলতে পারে না। ফলে গর্ভবতী নারী কিংবা মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে রোগী নিয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাওয়ায় পথেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।

জনসাধারণের এই চরম ভোগান্তির পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রশাসনিক বৈপরীত্য। পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ডিজিটাল সেন্টার এবং পরিবার পরিকল্পনা হাসপাতাল—নাগরিক সেবার সব কটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানই এক জায়গায়, অর্থাৎ বাড়ীয়ালী গ্রামে অবস্থিত। প্রশাসনিক এই সুবিধার কারণে বাড়ীয়ালী গ্রামটি পুরো ইউনিয়নের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। এই প্রধান সরকারি প্রশাসনিক কেন্দ্রে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম দশপাখিয়া-বাড়ীয়ালী সড়কটি এখন পুরোপুরি ‘অপথ’ বা চলাচলের অযোগ্য। ফলে সরকারি সব সেবা চোখের সামনে থাকলেও, রাস্তা সংস্কারহীন থাকায় ২০ মিনিটের পথ পার হতে মানুষকে দুই ঘণ্টার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এই দুই কিলোমিটার সড়কের অচলাবস্থার সরাসরি মাশুল দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি। এই অঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমির কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। দশপাখিয়া বাজারের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, ভাঙা রাস্তার কারণে ভ্যান বা পিকআপ চালকেরা এই পথে আসতে চান না। যারা আসেন, তারা তিন গুণ বেশি ভাড়া দাবি করেন। পণ্য পরিবহনের এই অতিরিক্ত খরচের কারণে স্থানীয় কৃষকেরা মাঠের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, যা সরাসরি গ্রামীণ হাটের ব্যবসাকে মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কেন এমন ‘অপথে’ পরিণত হলো, তার পেছনে স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজের রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত সময়ে এই সড়কের কাজের জন্য প্রাথমিক জরিপ ও মাইল মিটার বসানো হলেও, বর্তমান চেয়ারম্যান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই অংশের সরকারি বাজেট কেটে তাঁর নিজের গ্রামের ভেতরের রাস্তায় সরিয়ে নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বারবার সড়কটির দাবি তোলা হলেও অদৃশ্য কারণে বরাদ্দ মিলছে না।

অবশ্য চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী অফিস জানিয়েছে, এই দুই কিলোমিটার সড়কটি নতুন করে কার্পেটিং ও সংস্কারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন সরকারি তহবিল অনুমোদন হওয়া মাত্রই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করা হবে।

আমাদের চৌগাছা প্রতিনিধি জানান, যাতায়াতের এই চরম ভোগান্তি শুধু শিক্ষাজীবনেই স্থবিরতা আনেনি, কেড়ে নিয়েছে ন্যূনতম জরুরি চিকিৎসাসেবাও। স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদা বেগম জানান, রাস্তাটি এতটাই ভাঙা যে সাধারণ কোনো যানবাহন এই পথে চলতে পারে না। ফলে গর্ভবতী নারী কিংবা মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে রোগী নিয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাওয়ায় পথেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।

জনসাধারণের এই চরম ভোগান্তির পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রশাসনিক বৈপরীত্য। পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ডিজিটাল সেন্টার এবং পরিবার পরিকল্পনা হাসপাতাল—নাগরিক সেবার সব কটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানই এক জায়গায়, অর্থাৎ বাড়ীয়ালী গ্রামে অবস্থিত। প্রশাসনিক এই সুবিধার কারণে বাড়ীয়ালী গ্রামটি পুরো ইউনিয়নের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। এই প্রধান সরকারি প্রশাসনিক কেন্দ্রে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম দশপাখিয়া-বাড়ীয়ালী সড়কটি এখন পুরোপুরি ‘অপথ’ বা চলাচলের অযোগ্য। ফলে সরকারি সব সেবা চোখের সামনে থাকলেও, রাস্তা সংস্কারহীন থাকায় ২০ মিনিটের পথ পার হতে মানুষকে দুই ঘণ্টার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এই দুই কিলোমিটার সড়কের অচলাবস্থার সরাসরি মাশুল দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি। এই অঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমির কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। দশপাখিয়া বাজারের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, ভাঙা রাস্তার কারণে ভ্যান বা পিকআপ চালকেরা এই পথে আসতে চান না। যারা আসেন, তারা তিন গুণ বেশি ভাড়া দাবি করেন। পণ্য পরিবহনের এই অতিরিক্ত খরচের কারণে স্থানীয় কৃষকেরা মাঠের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, যা সরাসরি গ্রামীণ হাটের ব্যবসাকে মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কেন এমন ‘অপথে’ পরিণত হলো, তার পেছনে স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজের রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত সময়ে এই সড়কের কাজের জন্য প্রাথমিক জরিপ ও মাইল মিটার বসানো হলেও, বর্তমান চেয়ারম্যান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই অংশের সরকারি বাজেট কেটে তাঁর নিজের গ্রামের ভেতরের রাস্তায় সরিয়ে নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বারবার সড়কটির দাবি তোলা হলেও অদৃশ্য কারণে বরাদ্দ মিলছে না।

অবশ্য চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী অফিস জানিয়েছে, এই দুই কিলোমিটার সড়কটি নতুন করে কার্পেটিং ও সংস্কারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন সরকারি তহবিল অনুমোদন হওয়া মাত্রই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করা হবে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)