নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: এআই প্রণীত
গায়ে জড়ানো বিয়ের সাজ, কৌতূহলী চোখে চারপাশে নজর। যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বসে ছিল ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী। বিয়ের সাজে বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পথচারীদের। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার হয় ওই কিশোরী এবং আটক হয় পাচার চক্রের সাথে জড়িত এক নারীসহ দুজন।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন— শার্শা উপজেলার দিঘিরপাড়া গ্রামের আনজারুল হক গাজীর মেয়ে রাফেজা আক্তার এবং যশোর শহরের পুলিশ লাইন টালিখোলা এলাকার মধু পাগলার ছেলে তরিকুল ইসলাম সেন্টু।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা-মা অন্যত্র বিয়ে করায় সে বেনাপোলে তার নানির বাড়িতে বসবাস করছিল। সম্প্রতি নানি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে সে অসহায় অবস্থায় পড়ে। এই সময়ে রাফেজা আক্তার নামের এক নারীর সাথে তার পরিচয় হয়। ওই নারী তাকে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাফেজা আক্তার ও তরিকুল ইসলাম সেন্টু কিশোরীকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় নিয়ে আসেন। সেখানে ভুয়া বিয়ের আয়োজনের মাধ্যমে তাকে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পথচারীদের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। অভিযুক্তদের কথাবার্তায় অসংগতি পাওয়ায় তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং দুই অভিযুক্তকে আটক করে।
ওসি কবির হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পাচারের চেষ্টার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।