নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার দিনভর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে ভক্তদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে কুমারী পূজা এবং সন্ধিপূজা সম্পন্ন হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে বর্ণাঢ্য আচার-অনুষ্ঠান ও গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। সোমবার দিনভর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে ভক্তদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে কুমারী পূজা এবং সন্ধিপূজা সম্পন্ন হয়।
আশ্রম সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৫টায় মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় মহাষ্টমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা। শাস্ত্রমতে যশোর বেজপাড়ার বাসিন্দা সোহাগ পাঠক ও মল্লিকা পাঠকের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা, প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানী পাঠককে ‘সুভগা’ রূপে পূজা করা হয়। পূজা শেষে দেবীর চরণে অঞ্জলি প্রদান করেন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী। এ সময় বিশ্বশান্তি ও মানবজাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে এদিন সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট এবং পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট থেকে ৭টা ১ মিনিট পর্যন্ত অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর মহাগুরুত্বপূর্ণ ‘সন্ধিপূজা’। পূজা শেষে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীকে চালকুমড়ো, ইক্ষু ও পাকা কলা বলি দেওয়া হয়।
ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে আশ্রমের পুরোহিতরা জানান, অষ্টমী ও নবমীর সংযোগস্থলের বিশেষ ৪৮ মিনিটে দেবী চামুণ্ডা রূপ ধারণ করে চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বিনাশ করেছিলেন। সেই পৌরাণিক মাহাত্ম্য স্মরণে শাস্ত্রবিধি মেনে এই সময়টিতে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে পূজায় মূল পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী এবং তন্ত্রধারী ছিলেন শক্তিপ্রসাদ গাঙ্গুলী। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ ও সহসম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।
মঙ্গলবার মহানবমীর বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৬টায় রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে ১০৮টি নীল পদ্ম ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে নবমী পূজা সম্পন্ন করা হবে। আগামী পরশু বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর দিন সকাল সাড়ে ৬টায় কল্পারম্ভ এবং সকাল ৮টা ৫২ মিনিটের মধ্যে দর্পণ বিসর্জন সম্পন্ন হবে। পরিশেষে প্রতিমা নিরঞ্জন ও শান্তিজল সিঞ্চনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।