Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

সুখী দেশের তালিকায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনেরও পেছনে বাংলাদেশ

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২৩ আগস্ট,২০২৬, ১২:৩২ এ এম
আপডেট : রবিবার, ২৩ আগস্ট,২০২৬, ১১:৫৬ এ এম
সুখী দেশের তালিকায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনেরও  পেছনে বাংলাদেশ

সুখ চাইলেই কি সুখ মেলে? মেলে না। তবুও সুখের প্রত্যাশা সবার, কিন্তু সেই সুখ সবার জীবনে সমানভাবে ধরা দেয় না। সুখের খোঁজে মানুষ নানাভাবে ছুটে বেড়ায়।দেশের জন্যও সুখ সূত্র বাছতে হয়। মানুষ যেমন দেশও একইভাবে। সুখের সমীকরণ সময়ের সাথে বদলায়। উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির নানা পরিসংখ্যানের আড়ালে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা স্বস্তিদায়ক ও সন্তোষজনক—বিশ্ব সুখ প্রতিবেদনের ফলাফল সেই প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে শীর্ষ ২০-এ কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২১, সৌদি আরব ২২, কুয়েত ৩০ এবং কাজাখস্তান ৪৩ নম্বরে অবস্থান করছে। শীর্ষ ৫০ দেশের মধ্যে মাত্র চারটি মুসলিম দেশ রয়েছে। আর শীর্ষ ১০০টি দেশের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১৮টি। আর পুরো তালিকায় রয়েছে মাত্র ৩৭টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১২৭ নম্বর স্থানে।

বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন-২০২৬ অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। জরিপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের এই অবস্থানকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মনে করছেন গবেষকরা। উদ্বেগের বিষয় হলো, সুখের সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান এবং দীর্ঘদিনের নানা সংকটে জর্জরিত সোমালিয়াও। দেশ তিনটির অবস্থান যথাক্রমে ১০৮তম, ১০৯তম ও ১২২তম।

 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ সাধারণত জীবনের সবচেয়ে আনন্দের, সফল ও আকর্ষণীয় মুহূর্তগুলোই তুলে ধরে। অন্যদিকে দর্শক নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে অন্যের সাজানো মুহূর্তের তুলনা করেন। ফলে নিজের জীবনকে অনেকের কাছে অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে। এ কারণেই সুখ কেবল আয়, সম্পদ বা ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সম্পর্ক, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য, সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে কেউ দেশান্তরী হয়, কেউ আপনজনদের সান্নিধ্যে শান্তি খোঁজে, আবার কেউ অর্থ, সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদার মধ্যে জীবনের পরিতৃপ্তি খুঁজে ফেরে। কিন্তু মানসিক প্রশান্তি, তৃপ্তি, আনন্দ ও জীবনের সার্থকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সুখের অনুভূতি অধিকাংশ মানুষের কাছেই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

অন্যদিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর চিত্র তুলনামূলকভাবে উদ্বেগজনক। উচ্চ আয়ের কয়েকটি দেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও অধিকাংশ মুসলিম দেশ যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার কারণে তালিকার নিচের দিকেই রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থানও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

মানুষের সুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নতুন নয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনেই কোনো না কোনোভাবে ভালো থাকার বাসনা কাজ করে। মানুষ মনে করে আরেকটু অর্থ থাকলে সুখী হব, ভালো চাকরি পেলে জীবন বদলে যাবে, নিজের বাড়ি বা গাড়ি কিনতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষ্য পূরণের পর সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নতুন প্রাপ্তি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়, তৈরি হয় নতুন চাহিদা।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫ বছর ধরে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে—টাকা, খ্যাতি বা ক্ষমতা মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে সুখী করে না। মানুষকে সবচেয়ে বেশি সুখী ও সুস্থ রাখে তার সুন্দর ও গভীর সামাজিক সম্পর্কগুলো।

মানুষের নিজের জীবনের সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি হয় ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট। গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোলের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি কাল্পনিক সিঁড়ির কথা ভাবতে বলা হয়। শূন্য ধাপকে জীবনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা এবং ১০-কে সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো জীবন ধরে তারা বর্তমানে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করেন। সাধারণত ৩ বছরের তথ্যের গড় ব্যবহার করে দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।

এরপর গবেষকরা ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সঙ্গে জীবনমূল্যায়নের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। এগুলো হলো মাথাপিছু আয়, সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবন প্রত্যাশা, নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, উদারতা এবং দুর্নীতি থেকে মুক্তির ধারণা। এই ছয়টি উপাদান সরাসরি র‌্যাংকিং তৈরির উপাদান নয়; বরং কেন এক দেশের মানুষ অন্য দেশের তুলনায় নিজেদের জীবনকে ভালো বা খারাপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন, তার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেয়।

গবেষকরা বলছেন, তালিকায় পিছিয়ে থাকার অর্থ এই নয় যে, মুসলিম সমাজ বা ইসলাম সুখের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং সূচকে পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজতে গেলে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিতে হয়। মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিরিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত।

গবেষকদের মতে, সুখের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করা কঠিন। বরং মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর, সমাজে পারস্পরিক আস্থা কতটা এবং মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা আশাবাদী—এসব প্রশ্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ধ্রুব/টিএম

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)