ধ্রুব ডেস্ক
তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা আর রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিন একটি সংক্ষিপ্ত মন্ত্রিসভাও শপথ নেবে। শুরুতে ছোট পরিসরে সরকার পরিচালনা শুরু হলেও পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হতে পারে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রায় দুই বছর পর এই ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।
এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩টি দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আমন্ত্রণপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
গতকাল শনিবার রাতে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বাক্ষরে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই সরকার ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার এতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র বলছে।
ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তদারকি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সব মিলিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ প্লাজা বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে।