Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

রিলাক্সেশন টেকনিক নিয়ে কিছু পরামর্শ

সিদ্দিকা লাকী সিদ্দিকা লাকী
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে,২০২৬, ০৮:০০ এ এম
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৯ মে,২০২৬, ১০:০১ এ এম
রিলাক্সেশন টেকনিক নিয়ে কিছু পরামর্শ

মরা প্রায় সময়ই যাপিত জীবনে নানা রকমের মানসিক চাপ তথা শারীরিক অসুস্থতা অনুভব  করে থাকি।এটা ব্যক্তি, বয়স, স্থান, কাল, পাত্র ভেদে সবার ক্ষেত্রে  হয়ে থাকতে পারে।

আমি মানসিক চাপ ও শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে কিছু রিলাক্সেশন টেকনিক নিয়ে লিখবো বলেছিলাম। আজ সেই পর্বের একটি বাড়তি চেষ্টা করছি মাত্র।

আপনার যাপিত জীবনে ইন বিল্ট(In Built) কিছু চাপ থাকবেই। ধরুন, সংসার খরচ, লেখাপড়া, সন্তানের ভবিষ্যত, দাম্পত্য, কর্মস্থলের পরিবেশ, ছাত্রজীবন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এরকম অসংখ্য কারণ বা উপাদান আপনাকে প্রতিনিয়ত উদ্বেলিত করে থাকে।

কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও ভালো থাকতে বা সুখী থাকতে চাপ মোকাবেলায় কিছু চর্চা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তবে সবচর্চা অবশ্য সবার জন্য নয়। আমি এখানে কমন কিছু টেকনিক নিয়ে আলোচনা করবো-

১. ইবাদত বা প্রার্থনা

আপনি দিনের শুরু কিংবা শেষ এই দুই বেলাতেই শুরুটা করতে পারেন মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মাধ্যমে। আর এটি করার সবচেয়ে ভালো  উপায় হলো,  ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর কাছে নতুন একটি দিন উপহার দেবার জন্য শুকরিয়া আদায় করা। আমরা অনেকেই রাত জাগার কারনে ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠতে পারি না।কিন্ত সামান্য রুটিন পরিবর্তন করার মাধ্যমে এটি খুব সহজেই সম্ভব।

এমন কি দেরিতে উঠলেও সে সময়েও আল্লাহ তায়ালাকে স্মরন করে স্বাভাবিক ইবাদত করতে পারেন। কখনোই ঘুম থেকে উঠেই ফ্রেশ না হয়ে কোন কাজ শুরু করা উচিত নয়। এতে এক্সিডেন্টের ভয় থাকে। দিনের শেষেও আপনি কৃতকর্মের জন্য তাঁর নিকট ক্ষমা চেয়ে নিতে পারেন।এতে আপনার মানসিক প্রশান্তি বেড়ে যাবে।

২. নিয়মিত এবং সময়মত আহার গ্রহণ

আমাদের শরীর মূলত একটি মেশিনের মতো। তাই শরীর মহাশয়কে খাটিয়ে নেবার পাশাপাশি সারাদিন কমপক্ষে  ৫ বার (৩ বার পূর্ণ আহার এবং ২ বার হাল্কা নাস্তা)

গ্রহণ করা আবশ্যক। আহারের রুটিনে অবশ্যই সবজি এবং লিকুইড জাতীয় খাবার তালিকায় রাখুন। সঠিক সময়মতো খাবার গ্রহণ করুন। এতে শরীরের জন্য পুষ্টি নিশ্চিত হয় এবং নিয়মিত ও সতেজ খাবার আমাদের মনকেও চাঙ্গা করে তোলে।

৩. ব্যায়াম করা

আমাদের সকলেরই বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম করা উচিত।এটি Parasympathetic nervous system কে আরওএক্টিভেট করে তোলে,আর আপনি হতে পারেন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বেগমুক্ত ও উৎফুল্ল চিত্তের অধিকারী।

৪. সবুজের সাথে সময় কাটান

কর্মব্যস্ত দিনের যেকোন একটি সময় (কমপক্ষে ৩০ মিনিট)বাসায় অথবা অফিসে সবুজের সাথে তথা বাগান,ব্যালকনি বাগান কিংবা অফিসের কোন  কমন ওপেন স্পেসে গিয়ে একান্তে সময় কাটান। পারলে সেই বাগানের পরিচর্যায় অংশগ্রহণ করুন।

দেখবেন সূর্যের আলোও উপভোগ করা হবে আর সবুজের সাথে সময় কাটানোর পরে আপনি চাঙ্গা মনোভাব নিয়ে বাকীটা সময় পার করতে পারবেন।

৫. ভালো মানুষের সঙ্গ উপভোগ করুন

প্রতিদিন আপনি কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে কোন প্রিয়জনদের সাথে ভালো সময় কাটাতে পারেন। তবে একজন ভালো তথা গুণী মানুষের সঙ্গ আপনাকে অন্যরকম অনুভূতি এনে দেবে। তাদের কাছ থেকে আপনি জীবন সম্পর্কে  সর্বদা ইতিবাচক রূপরেখা পাবেন।

৬. পরিবারের সদসদের সাথে অন্তত একবার আহার গ্রহন করুন

আমি জানি অনেকেই এ ব্যাপারটা পেরে উঠছেন না বা সুযোগ নেই বলতে পারেন। কিন্তু এটাই আপনার চাপমুক্ত জীবন পেতে টনিক হিসেবে অত্যন্ত কার্যকরী। খাবার টেবিলে ফানটাইম, প্লানিং, চাকরির টেনশন, পরীক্ষা,  এমনকি সন্তানের সাথেও খুঁনসুটির সময়টুকু চমৎকারভাবে উপভোগ্য। সেই সাথে অন্তত দুই মাস পর পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথাও বেড়িয়ে আসতে পারেন অথবা ঘরোয়া পরিবেশের মধ্যেও ভিন্ন কিছু আয়োজন করতে পারেন।

৭. শখের কাজটি চর্চা করুন

মানুষ মাত্রই যে কারো কোন না কোন শখ থাকতেই পারে।সেই শখের কাজটিতে সময় দিন।সেটা হতে পারে গান গাওয়াবা শোনা, মুভি দেখা, বই পড়া, বেড়ানো, রান্না করা, ফ্যাশন স্টাইল অথবা পজিটিভ যেকোন কিছু। শখ যেটাই হোক না কেন, চর্চা করুন,খুব সুন্দর ফলাফল পাবেন।

৮. পরিস্থিতি পড়তে দক্ষতা বাড়ান

আমরা বেশিরভাগ চাপ অনুভব করি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে।তাহলে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে যথেষ্ট পরিনত মানসিকতার প্রয়োজন।তাই পরিস্থিতি পড়তে পারলে আপনার চাপ এমনিতেই কমে আসবে।এক্ষেত্রে ইন্টার পারসোনাল কমিনিউকেশন দক্ষতা আপনাকে যথেষ্ট সহায়তা করতে পারে।

৯. মাইন্ড ম্যাপিং করুন

মাইন্ড ম্যাপিং হলো এক ধরনের শিখন প্রক্রিয়া।এটি আপনাকে মূল ধারনা থেকে ক্রমাগত আরও অনেক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সহজেই আপনার উপস্থিত বাচন দক্ষতা, পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারন,পাবলিক স্পিকিং কৌশলসহ অনেক কাজে লেগে থাকে। মাইন্ড ম্যাপিং সাধারণত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হয়ে থাকে।

১০. ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখুন

পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আপনার মনোবল সর্বদা  চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করুন। কঠিন সময় বা খারাপ সময়গুলোতে ও ইতিবাচক থেকে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে থাকুন। লোকে কী বলবে, এটি নিয়ে মোটেও চিন্তিত হওয়া যাবে না। মানুষের প্রতি বিনয়ী এবং রেসিপ্রোসিটি সুলভ আচরণ করুন।

অযথা অহংবোধ পরিহার করুন। অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে পোকিং বা নাক গলানোর অভ্যাস থাকলে তা ধীরে ধীরে পরিত্যাগ করুন। নিজেকে নিয়ে সুখী থাকুন। বাহ্যিক পরিবেশের পরিহার্য পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন। যেকোন অবস্থাতেই নেতিবাচক মানুষের সঙ্গএড়িয়ে চলুন। এমনকি প্রথমে বুঝতে না পারলেও বুঝার পরে সতর্ক হোন।

আশা করি, বর্ণিত বিষয়গুলো আপনারা প্রতিনিয়ত চর্চা করে যাচ্ছেন। আমি আপনাদের জানা বিষয়গুলোই আলোকপাত করলাম।

যতটুকু মেনে চলা যায়, ততটুকুই মঙ্গল। আজ এ পর্যন্তই। শুভকামনা

লেখক : কবি, গদ্যকার ও মোটিভেশনাল স্পিকার। অতিরিক্ত ডিআইজি হিসাবে সিআইডিতে কর্মরত।

এই লেখকের আরও লেখা-

দৃষ্টিভঙ্গির সাতকাহন দৃষ্টিভঙ্গির সাতকাহন

সিদ্দিকা লাকীর গুচ্ছ কবিতা সিদ্দিকা লাকীর গুচ্ছ কবিতা

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)