Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

হজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় না কেন

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ মে,২০২৬, ০২:২১ পিএম
হজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় না কেন

জান্নাতুল বাকি ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে তীব্র গরম, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, ভিড়ে পদদলিত হওয়া কিংবা দুর্ঘটনার কারণে অনেক হজযাত্রীর মৃত্যু হয়। এ বছরও প্রখর তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমের কারণে বাংলাদেশিসহ শত শত হাজির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হজ পালন করতে গিয়ে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার মরদেহ, কাফন-দাফন ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সৌদি সরকারের সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নিয়ম রয়েছে। এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। আপনার পছন্দ অনুযায়ী সব পদবি নামের আগে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনো সাব-হেডিং রাখা হয়নি।

সৌদি আরবের হজ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, পবিত্র ভূমিতে হজ করতে গিয়ে কোনো বিদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় না; বরং সৌদি আরবের মাটিতেই তা দাফন করা হয়। মূলত হজে যাওয়ার প্রস্তুতিপর্বে আবেদনপত্র পূরণের সময়ই প্রত্যেক হজযাত্রীকে এই শর্তে লিখিত অঙ্গীকার ও সম্মতি দিতে হয় যে, সৌদি আরবের আকাশ বা জলসীমানায় তার মৃত্যু হলে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে এবং এই বিষয়ে পরিবারের কোনো আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। ফলে মৃতের স্বজনরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো প্রকার সুপারিশ বা দাবি জানাতে পারেন না। তবে বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ হজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করাকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের এবং বিশেষ মর্যাদার বিষয় বলে মনে করে। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো হাজির পরিবারকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি করতে দেখা যায়নি।

কোনো হজযাত্রী তার হোটেল, মিনা-আরাফাতের তাবু, রাস্তা কিংবা হাসপাতালে মারা গেলে লাশের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। সাধারণত হাজির কবজিতে থাকা হাতের বিশেষ রিস্টব্যান্ড (যা স্ক্যান করলে যাবতীয় তথ্য মেলে) এবং গলায় ঝোলানো পরিচয়পত্র (আইডি) থেকে তার নাম, বয়স, জাতীয়তা ও ট্রাভেল এজেন্সির তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মাঠে কর্মরত উদ্ধারকর্মী বা মোয়াল্লেমরা (সৌদি গাইড) এই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ মিশন ও সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন। এরপর বাংলাদেশ হজ মিশন তাদের ডাটাবেজের ছবির সাথে মৃতের চেহারা মিলিয়ে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বাংলাদেশে থাকা পরিবারকে বিষয়টি জানায়। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় হাসপাতাল বা বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে সার্টিফাইড চিকিৎসকের ডেথ সার্টিফিকেট বা মৃত্যু সনদ এবং মোয়াল্লেম অফিসের ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশ হজ অফিস একটি নির্ধারিত ফরমে লিখিত প্রত্যয়ন দেওয়ার পর সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিক মৃত্যু সনদ ইস্যু করে। এই সনদটি পরবর্তীতে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের কাছে পাঠানো হয় এবং তারা বাংলাদেশে অবস্থিত হজ কার্যালয় থেকে এই মৃত্যু সনদসহ প্রয়াত হাজির পাসপোর্ট, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত মালামাল সংগ্রহ করতে পারেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো মরদেহ দেখার সুযোগ পান না; তবে কোনো নিকটাত্মীয় যদি ওই সময় মক্কা বা মদিনায় সশরীরে উপস্থিত থাকেন, তবে তিনি লাশ দেখার ও জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

মরদেহের গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচ ও ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বহন করে সৌদি সরকার। এর জন্য মৃতের পরিবার বা নিজ দেশের সরকারকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না। হাজির মৃত্যু মক্কায় হলে মক্কার রুশাইফায় এবং মদিনা বা জেদ্দায় হলে সেখানকার নির্ধারিত কেন্দ্রে লাশের গোসল ও কাফনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা রয়েছে। লাশ বহনের জন্য সৌদি সরকারের বিশেষ ফ্রিজার ভ্যান ব্যবহৃত হয়। মক্কা, মিনা বা মুজদালিফায় মারা যাওয়া হাজিদের জানাজা পবিত্র মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) এবং মদিনায় মারা যাওয়া হাজিদের জানাজা মসজিদে নববীতে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ধর্মতত্ত্ববিদ ড. ওলিউর রহমান খান জানান, এই দুই পবিত্র মসজিদে প্রায় প্রতি ওয়াক্তের ফরজ নামাজের পর মৃতদের জানাজা সম্পন্ন হয়, যাকে ইসলামে 'ফরজে কেফায়া' বলা হয়। যদি কোনো হাজী মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে মারা যান, তবে পরিবারের সম্মতি নিয়ে যেকোনো এক শহরে তাকে দাফন করা হয়। আর জেদ্দায় মারা গেলে স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে জেদ্দাতেই দাফন করা হয়, তবে পরিবার চাইলে মক্কা বা মদিনায় দাফনের আবেদন করতে পারে।

মক্কায় জানাজার জন্য মরদেহ প্রথমে বিশেষ গাড়িতে করে কাবা শরিফের দক্ষিণে 'বাবে ইসমাইল' গেটের কাছে আনা হয়। ফরজ নামাজ শেষে ইমাম সাহেব মৃতের সংখ্যা ও লিঙ্গ উল্লেখ করে জানাজার ঘোষণা দেন এবং সাধারণত কাবার দক্ষিণ পাশে মাতাফ সংলগ্ন তুর্কি হারাম এলাকা থেকে জানাজা পড়ানো হয়। জানাজা শেষে মক্কায় মৃত্যুবরণকারীদের মক্কার ঐতিহ্যবাহী 'শারায়া' কবরস্থানে দাফন করা হয়। আর যারা মদিনায় মারা যান, তাদের মসজিদে নববী সংলগ্ন বিখ্যাত 'জান্নাতুল বাকি' (বাকিউল গারকাদ) কবরস্থানে দাফন করা হয়। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, কবরস্থানে হাজিদের নাম-পরিচয় সম্বলিত কোনো ফলক বা নামফলক থাকে না এবং সেখানে কবর বাঁধানো বা স্থায়ীভাবে কবর কিনে রাখার কোনো নিয়ম নেই। এই কবরস্থানগুলোতে লাশগুলো মূলত বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট চেম্বারে বা থরে থরে দাফন করা হয়। তবে কোন হজযাত্রী কত নম্বর চেম্বার বা কবরে আছেন, তা কবরস্থানের সরকারি রেজিস্ট্রেশন খাতায় নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত থাকে। ফলে পরবর্তীতে মৃতের স্বজনরা চাইলে সেই খাতার তথ্য মিলিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করতে পারেন।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)