আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আনা হয়েছে জোড়া ট্রাঙ্ক। ছবি: ধ্রুব নিউজ
ভারতের বীরভূমে সরকারি বাসের এক চালকের বাড়ি থেকে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ কোটি টাকা নগদ এবং ৮ থেকে ১০ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাতভর তল্লাশি শেষে সকালে বিপুল এই কালো টাকার সন্ধান মিলতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা গণনার জন্য তড়িঘড়ি আনা হয়েছে ৫টি নোট গোনার যন্ত্র। আর এই বিপুল নগদ অর্থ নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হয়েছে ২টি বিশাল ট্রাঙ্ক।
মঙ্গলবার গভীর রাতে অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হঠাৎ হানা দেয় পুলিশের একটি বড় টিম। শুরুতেই পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন তারা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয় তদন্তকারীদের। বিপুল পরিমাণ এই নগদ টাকার পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে কয়েক কেজি ওজনের সোনাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেশায় সরকারি বাসের চালক হলেও মিনার মণ্ডলের জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা ছিল সাধারণ চালকের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। পাথর ব্যবসার পাশাপাশি টুলু মণ্ডলের একাধিক খাদানের সঙ্গেও তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, এক সাধারণ বাস চালকের কাছে এত পরিমাণ সোনা এবং কোটি কোটি টাকা এল কোথা থেকে? এটি কি শুধুই বেআইনি পাথর ব্যবসার টাকা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের যোগসূত্রে রয়েছে, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বীরভূমের পরিচিত মুখ টুলু মণ্ডল এক সময় তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি পাথর খাদান পরিচালনা এবং গরু পাচার মামলায় জড়িয়ে থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি টুলুর বাড়ি ও অফিসে জোরদার তল্লাশি চালায়। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে টুলুর আত্মীয়ের বাড়িতে এই ধরনের পুলিশি হানা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
ইতিমধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সরব হয়েছে বিজেপি। সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলে বলেন, রাজ্যে অরাজকতা ও সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটছে। যাঁরা একসময় খেলা হবে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, তাঁরা এখন দেখতে পাচ্ছেন কীসের খেলা হচ্ছে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই বিপুল টাকা বাজেয়াপ্ত করে সরাসরি সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের দাবি জানান তিনি।
উদ্ধার হওয়া সোনার অলঙ্কার ও নগদ টাকার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে নোট গোনার যন্ত্র দিয়ে দীর্ঘ সময় গণনা চালানো হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংবাদ সম্মেলন বা বিস্তারিত বিবৃতি দেয়া হয়নি। উদ্ধারকৃত সম্পদের পেছনে মূল চক্রী কে এবং কার কার হাতে এই অর্থ পৌঁছানোর কথা ছিল, তা বের করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা