আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ মে হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট কক্ষে একটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়নি। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি উভয় দিকের জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং সেখানে পেতে রাখা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে। খবর বিবিসির।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) খসড়া কাঠামোয় নীতিগতভাবে একমত হয়েছিল। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এটি কার্যকর হতে ট্রাম্প ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তি করবেন না যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে না। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে নিলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া অথবা ধ্বংস করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে ইরানের অবস্থান ভিন্ন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, তেহরান বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মনোযোগী এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না।
এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান প্রতিশ্রুতি বা কথায় নয়, বাস্তব পদক্ষেপে বিশ্বাস করে। অপর পক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ইরানও কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও উভয় পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।
ফলে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতার পথ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।