Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

রাখাইনের ধানক্ষেতে কঙ্কাল ও মাথার খুলির স্তূপ

❒ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে,২০২৬, ০১:১৭ পিএম
রাখাইনের ধানক্ষেতে কঙ্কাল ও মাথার খুলির স্তূপ

মিয়ানমারের রাখাইনে ‘হোয়ার সিরি’তে নিজ গ্রামের অন্য রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গোপনে ফিরে আসেন ওমর আহমেদ। এর দুই মাস আগে হোয়ার সিরিতে চালানো আরাকান আর্মির গণহত্যা থেকে তারা বেঁচে গিয়েছিলেন। ওমর আহমেদ বলেন, ‘আমরা যখন ফেলে যাওয়া কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করতে ফিরে আসি, তখন দেখতে পাই বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রিয়জন ও প্রতিবেশীদের দেহাবশেষ দেখতে পাই। গ্রামে কোনো গবাদি পশু দেখা যায়নি, যদিও এক সময় প্রতিটি বাড়িতেই গৃহপালিত পশু ও হাঁস-মুরগি ছিল। শুনেছি আরাকান আর্মি সেগুলো নিয়ে গেছে। আমি সেই ধানক্ষেতেও গিয়েছিলাম, যেখানে আমার নিকটাত্মীয়সহ প্রায় ৮০ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়েছিল। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কঙ্কাল ও মাথার খুলির স্তূপ দেখেছিলাম, মাংস পচে গেলেও পোশাক তখনও অক্ষত ছিল।’

২০২৪ সালের মে মাসে হোয়ার সিরিতে আরাকান আর্মি গণহত্যা চালায়। রোহিঙ্গাদের ওপর এই নির্মমতা নিয়ে ‘কঙ্কাল ও মাথার খুলি, সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে’ শীর্ষক প্রতিবেদন এই বর্ণনা দিয়ে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। আজ মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার কথা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়ার সিরিতে আরাকান আর্মির বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা এবং গুলি চালানো ছিল যুদ্ধ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া আবুল হাশিম বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার প্রকৃতি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ বেসামরিক নাগরিক, নিরাপত্তার জন্য এলাকা থেকে সরে যাচ্ছি, এটা বোঝাতে সাদা পতাকা ঝুলিয়েছিলাম। তারা শুধু গুলি চালাচ্ছিল, যারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল তাদের প্রতিও।’

আরাকান আর্মি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা, হত্যা, বেআইনি আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, বেসামরিক সম্পত্তির ধ্বংসসাধন এবং লুটপাট চালায়। তবে আরাকান আর্মি বুথিডংয়ের হোয়ার সিরিতে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায় অস্বীকার করেছে। এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের প্রতি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গণহত্যা ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই বছরের ২৫ আগস্ট থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে নতুন করে দেড় লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ২ মে আরাকান আর্মির গণহত্যার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এ গণহত্যার বিবরণ এক বছরেরও বেশি সময় পর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে, যখন কিছু রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেয়। পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এইচআরডব্লিউ। এ ছাড়া স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে তাদের বিবরণের সত্যতা যাচাই করেছে। পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ ও যাচাই করেছে। হোয়ার সিরি হত্যাকাণ্ডের পর নিহত বা এখনও নিখোঁজ থাকা ১৭০ জনেরও বেশি গ্রামবাসীর একটি তালিকা করেছে এইচআরডব্লিউ। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ জন শিশু। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, রাশিয়া, আশিয়ান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির জন্য কিছু সুপারিশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বাংলাদেশের প্রতি সুপারিশে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। হোয়ার সিরি থেকে পালিয়ে আসাদের চিকিৎসাসেবা, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং সুরক্ষা পরিষেবার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গারা যাতে পর্যাপ্ত খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসাসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা পায় তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারে যে কোনো প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা বন্ধ রাখতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও জান্তার নেতৃত্ব ও সামরিক মালিকানাধীন সংস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞায় জন্য চীন ও রাশিয়ার প্রতি সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)