নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের পাইলিং এর কাজ চলছে ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ২৭ এপ্রিল। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে। এদিন তিনি ১০ তলাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট সুবিশাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ঐতিহাসিক উলাশী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। যমেক হাসপাতাল প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৭ কোটি টাকা, এরমধ্যে শুধুমাত্র হাসপাতাল ভবন নির্মাণেই ব্যয় হচ্ছে ২৫২ কোটি টাকা, যা এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।
২৫ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই বিশাল হাসপাতালের স্থাপত্যশৈলী ও কারিগরি সক্ষমতা অত্যন্ত আধুনিক। ভবনের ৭৯,৯০০ বর্গফুটের বিশাল বেজমেন্টে থাকবে ১০৪টি গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা, উন্নত আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার এবং বিশাল আসবাবপত্র স্টোর। হাসপাতালের নিচতলায় ৮৭,৬৬২ বর্গফুট এলাকায় থাকছে অত্যাধুনিক জরুরি বিভাগ, রেডিওলজি ও ইমেজিং ইউনিট, রেজিস্ট্রেশন বুথ এবং উন্নত ক্যাফেটেরিয়া। দ্বিতীয় তলার ৮৩,৬৩০ বর্গফুট এলাকায় স্থাপন করা হবে বিশেষায়িত কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং আল্ট্রাসাউন্ড কক্ষ, যা এই অঞ্চলের রোগীদের ঢাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেবে। তৃতীয় তলায় থাকবে প্রশাসনিক ব্লক, ডক্টরস রুম, বিশাল ফার্মেসি এবং স্টোর। চতুর্থ তলায় স্থাপন করা হচ্ছে অতি-সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য ২৫ শয্যার আইসিইউ এবং ২৭ শয্যার সিসিইউ, সাথে থাকছে ১১টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট বা এইচডিইউ। পঞ্চম তলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরে থাকবে জেনারেল ওয়ার্ড, প্রফেসর রুম এবং মিনি ল্যাব, যেখানে মোট ৪১৭টি সাধারণ শয্যার ব্যবস্থা থাকবে। ভবনটির দশম তলায় থাকছে ৪০টি ভিআইপি কেবিন সুবিধা, যা বিত্তবান রোগীদের উন্নত ও নিরিবিলি চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে যশোরবাসীর চিকিৎসা দুর্ভোগ নিরসন হবে। বর্তমানে জটিল অস্ত্রোপচার বা হার্টের সমস্যার জন্য এই অঞ্চলের মানুষকে যে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ যাত্রা করতে হয়, তা আর প্রয়োজন হবে না। একদিকে যেমন সরকারি খরচে ডায়ালাইসিস ও এমআরআই-এর মতো ব্যয়বহুল সেবা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি ইন্টার্নশিপ ও গবেষণার সুযোগ পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসম্মত চিকিৎসক তৈরিতে সহায়ক হবে। পুরো প্রকল্পটি সামাজিক ও পরিবেশগত দিক বিবেচনায় নিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে নারীদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শায় অবস্থিত ঐতিহাসিক উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজেরও সূচনা করবেন। এই খালটির সাথে জড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির স্মৃতি।