Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

২৭৮ বেডে ৯৭২ রোগী, যশোর ২৫০ শয্যা হাসাপাতালে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা পরিবেশ

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ৯ নভেম্বর,২০২৬, ০৮:৩৫ এ এম
২৭৮ বেডে ৯৭২ রোগী, যশোর ২৫০ শয্যা হাসাপাতালে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা পরিবেশ

হাসপাতালে রোগী আর রোগী। কোথাও নেই জায়গা। ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোরে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপচে পড়া রোগীর ভিড়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালজুড়ে কেবল রোগী আর রোগী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে , ওয়ার্ড বা চলাচলের করিডোরে পা ফেলারও কোনো জায়গা নেই। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর চাপ সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন এবং এ অবস্থায় তাদের করণীয় খুব বেশি কিছু নেই। তবে চিকিৎসকরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

বছরের শেষ প্রান্তে এসে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, হাম ও নিউমোনিয়ার মতো রোগের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড, বারান্দা এবং লোক চলাচলের করিডোরে রোগী শুয়ে রয়েছে। রোগীর প্রচণ্ড ভিড়ে হাসপাতালে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় চিকিৎসাধীন রোগীর বিছানায় পা ফেলতে হয়। জীবন বাঁচাতে আসা এসব মানুষ সরকারি বিছানা বা সুযোগ-সুবিধার তোয়াক্কা না করে কেবল একটু সুস্থতার আশায় হাসপাতালে ছুটে আসছেন; কিন্তু সেখানেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা নামমাত্র হাসপাতালের কাজ সেরে দ্রুত ব্যক্তিগত চেম্বারে চলে যান। অন্যদিকে, জুনিয়র চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীদের দেখভাল করেন এবং অনেক সময় উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ইচ্ছামতো রোগীদের অন্যত্র রেফার্ড (স্থানান্তর) করেন। এতে চিকিৎসাসেবা একপ্রকার শুভঙ্করের ফাঁকিতে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে রোগীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৭৮ শয্যার এই হাসপাতালে (যার মধ্যে ২৮ শয্যার করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউ অন্তর্ভুক্ত) গত রোববার মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৭২ জন। প্রতিটি বেডের বিপরীতে গড়ে তিনগুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে শুধু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছিলেন ৬১ জন।

যশোর সদর উপজেলার সাতমাইল এলাকার রুবেল হোসেন (২৫) ও শেখহাটি এলাকার হাবিবের কন্যা হাবিবা (১৬) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাবিবার মা কাকলী বেগম আক্ষেপ করে জানান, “সকালে কয়েকজন ডাক্তার মিলে চিকিৎসা দিয়ে গেছেন, কিন্তু দুপুর পর্যন্ত আর কোনো চিকিৎসক খোঁজ নেননি।”

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ডেঙ্গু ও হামের মতো সংক্রামক রোগগুলো সোয়াচে (ছোঁয়াচে) হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ রোগীদের সাথেই ওয়ার্ডে ও করিডোরে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংক্রামক রোগীদের আলাদা রাখার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় অন্যান্য রোগীর মাঝেও রোগ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত যশোর জেলায় মোট ২ হাজার ২৩৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, অবস্থা অবনতি হওয়ায় ৪৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে, এবং ২ হাজার ৩২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৩ জন।

এদিকে সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৭ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭২৫ জনে। হাসপাতালে ডায়রিয়া, হাম ও ডেঙ্গু রোগীদের একত্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়ায় রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তির দিকে। এই পরিস্থিতিতে অনেক চিকিৎসকও রোগীদের কাছে যেতে দ্বিধাবোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে রোগীরা ক্ষুব্ধ।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা মাত্র ২৭৮টি, অথচ এর বিপরীতে তিনগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত কোনো জায়গা নেই, যেখানে রোগী আলাদা করে রাখা যায়। বাধ্য হয়েই একই স্থানে গাদাগাদি করে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এর ফলে এক রোগীর রোগ অন্যজনের দেহে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা আমরা চাইলেও রোধ করতে পারছি না। তবে কোনো রোগীকেই তো আর ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, এই সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। চিকিৎসকরাও প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কাজ করছেন। তার পরও যদি কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সূত্র : লোকসমাজ

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)