Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

যশোরে এবার ৫১ হাজার টন আম উৎপাদনের আশা

সাইফুল ইসলাম সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ : বুধবার, ১১ মার্চ,২০২৬, ০১:৫০ পিএম
আপডেট : বুধবার, ১১ মার্চ,২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

কুঞ্জবীথিকায় আজ আমের মঞ্জরী, কোনো কোনো গাছে এসেছে গুটি ছবি: ধ্রুব নিউজ

বসন্তের উদাস হাওয়ায় এখন মাতাল যশোরের আম্রকাননগুলো। প্রকৃতির এই পটপরিবর্তনের প্রধান বার্তা নিয়ে এসেছে আমের সোনালি মুকুল। বাগানে বাগানে গাছের ডালগুলো এখন মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ছে, যা দেখে অবলীলায় মনে পড়ে যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কালজয়ী পঙ্ক্তি— ‘আমের মঞ্জরী আজ কুঞ্জবীথিকায় / উদাস সমীরণে পাগল হয়ে যায়।’

বসন্তের এই ছোঁয়ায় মৃতপ্রায় আম বাগানগুলোতে ফিরেছে প্রাণ । যশোরের প্রতিটি উপজেলায় এখন শুধু মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। ডালপালা ছাপিয়ে যে সোনালি আভা প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে, তা কেবল সৌন্দর্যের নয়, বরং কৃষকের আগামীর সচ্ছলতারও ইঙ্গিত। তবে এই অপরূপ সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে শ্রম আর আশঙ্কার সম্মিলন।

যশোরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। এ বছর যশোরে আম চাষের জন্য ৩ হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, বাস্তবে আবাদ হয়েছে আরও বেশি। বর্তমানে ৪ হাজার ২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ চলছে, যা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবকে ছাড়িয়ে গেছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর জেলা থেকে ৫১ হাজার ২৩৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গড় হিসাব করলে প্রতি হেক্টরে প্রায় ১২.৮৮ টন ফলনের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে মণিরামপুর ও কেশবপুর অঞ্চলে এবার আবাদে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে। গত বছর এসব এলাকায় হেক্টরপ্রতি ১১-১২ টন ফলন হলেও, এ বছর তা বাড়িয়ে ১৪ থেকে ১৬ টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আম বাগানের এই নজরকাড়া রূপ দেখে কৃষকেরা খুশি হলেও, মনের কোণে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। মুকুল আসার এই সংবেদনশীল সময়টাতে অতিরিক্ত বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি কিংবা আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় হলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। অনেক কৃষকের সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পরিচর্যার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও, তারা নিজ নিজ বাগান রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের প্রতিনিয়ত বাগান পর্যবেক্ষণ এবং আবহাওয়া বুঝে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কুয়াশা বা ছত্রাকজনিত সমস্যা থেকে এই আগাম ফসলকে রক্ষা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, এখন অধিকাংশ গাছে মটর দানার মত গুটি আসছে। এ সময়টাতে খুবই সতর্ক থাকতে হয়। কৃষকেদেরকে আমরা ভিন্ন ভিন্ন স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করা যায় এবার আমের ফলনও ভালো হবে।  

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)