Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

বজ্রপাতে ৭ জেলায় মৃত্যু ১৪ জনের

❒ গাইবান্ধায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
বজ্রপাতে ৭ জেলায় মৃত্যু ১৪ জনের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। রোববার বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাত হলে তারা মারা যান। এর মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আহত হয়েছেন আরও একজন। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ, জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দুজন করে মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে পঞ্চগড়ের অটোয়ারী, বগুড়ার গাবতলী এবং নাটোরের সিংড়ায় একজন করে মারা গেছেন।

গাইবান্ধা

সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

সেখানে নিহতরা হলেন- ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ হাসান চৌধুরী (২২), আল মোজাহিদ চৌধুরী ওরফে ছোটনের ছেলে রাফি চৌধুরী (১০) এবং একই গ্রামের নবীর হোসেনের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান (১৬)। ফুয়াদ হাসান চৌধুরী ও রাফি চৌধুরী তারা আপন চাচাতো ভাই।

আহত হয়েছেন একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে শাহীন মিয়া (১৭)। তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত অপর দুজন হলেন- ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা চরের শুক্কুর আলী প্রামাণিকের ছেলে মানিক প্রামাণিক (৩৫) এবং সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের মৃত কছির উদ্দিনের ছেলে নম্বার আলী (৬০)।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মণ্ডল বলেন, তারা সবাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর বাড়ির উঠানে বাঁশের টংয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় বজ্রপাত ও বৃষ্টি।

তাৎক্ষণিক সবাই উঠানে গরু বেঁধে রাখার চালা ঘরে অবস্থান নেন। সেখানে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিন ব্যক্তি ও একটি গরু মারা যায়। গুরুতর আহত হয় শাহীন।

অপরদিকে ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান বলেন, বিকালে মানিক প্রামাণিক তার ঘোড়ার গাড়িতে চরাঞ্চলে খড় পরিবহণ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘোড়াসহ তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাছিরুল আলম স্বপন বলেন, বিকাল ৩টার দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে নম্বার আলী বাড়ির পাশে মাঠে বেঁধে রাখা ছাগল আনতে যান। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

পঞ্চগড়

আটোয়ারী উপজেলায় কাঁচা চা পাতা কাটার সময় বজ্রপাতে এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

রোববার সকালে ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের একটি চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে বলে আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান জানান।

নিহত ২৫ বছর বয়সী সোহরাওয়ার্দী সোনাপাতিলা গ্রামের আবু সামাদের ছেলে।

আহতরা হলেন- একই এলাকার মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩)।

ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের মো. দুলাল বলেন, “সকালে সোহরাওয়ার্দীসহ কয়েকজন শ্রমিক চা পাতা তুলতে বাগানে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে এবং হালকা বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়।

“এক পর্যায়ে বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনজন শ্রমিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অন্য শ্রমিকরা বাকিদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারলেও সোহরাওয়ার্দী পথেই মারা যান।”

গুরুতর আহত মোস্তফা ও জাহেরুল ইসলামকে পরে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওসি মতিয়ার বলেন, বজ্রপাতে নিহত চা শ্রমিকের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ

তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

তাড়াশ থানার ওসি হাবিবুর রহমান এবং রায়গঞ্জ থানার ওসি আহসানুজ্জামান বলেন, রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) এবং রায়গঞ্জ উপজেলা ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিক চাঁন গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে কৃষক হাসান আলী (২৪)।

মাধাইনগর ইউপির সদস্য শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, কৃষক আব্দুল হামিদ বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

অপরদিকে প্রতিবেশী তাঁত ব্যবসায়ী নেজবার আলী বলেন, হাসান আলী বৃষ্টির সময় বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া

গাবতলী উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার বিকালে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে গাবতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু মুসা জানান।

নিহত যুবকের নাম সুমন (৩৫)। তিনি মুচিখালী গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, বিকাল পৌনে ৪টার দিকে এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় সুমন বাড়ির পাশের একটি জমিতে থাকা ছাগল আনতে যান। জমিতে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

পরিদর্শক বলেন, খবর পেয়ে এসআই মো. মাহবুবসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হবে।

জামালপুর

সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়ন এবং মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ইয়াহিয়া আল মামুন জানান।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর এলাকার হবিবর আলীর ছেলে হাসমত আলী (৪৫) এবং মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার কড়ইচুড়া গ্রামের রাজিব কুলির স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (২১)।

একই ঘটনায় শেফালী বেগম (২৮) নামে আরেক গৃহবধূ আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বিকালে বৃষ্টি শুরু হলে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় হাসমত আলী ও তার চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বজ্রপাতে আহত হয়। পরে তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হাসমত আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত আনোয়ার হোসেন চিকিৎসাধীন। বজ্রপাতে হাসমত আলীর একটি গরুও মারা গেছে।

নিহত মর্জিনা আক্তারের স্বামী রাজিব কুলি বলেন, দুপুরে বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে চুলায় রান্না করছিলেন মর্জিনা। এ সময় পাশেই বজ্রপাত হয়। এতে মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারান মর্জিনা। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে বজ্রপাতে আহত শেফালী বেগমকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি একই এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী।

নাটোর

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে ধান কাটতে নাটোরের সিংড়ায় এসে বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার বিকাল ৪টায় ঠেংগা পাকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সিংড়া থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম।

নিহত সম্রাট হোসেন (২৬) শাহজাদপুর এলাকার নগরডালা এলাকার সাজা ফকিরের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বিকালে চলনবিলে ধান কাটছিল সম্রাটসহ আরও কয়েকজন। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে সম্রাট ধান কাট বাদ দিয়ে পাশের এক ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানে বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্য শ্রমিকরা তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারকে জানানো হয়েছে। উনারা এখনো কেউ এসে পৌঁছাননি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ঠাকুরগাঁও

পীরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

পীরগঞ্জ থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, রোববার দুপুরে উপজেলার সৈয়দপুর এবং বিকালে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৩৫) এবং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

পুলিশ জানায়, দুপুরে গৃহবধূ সেলিনা বাড়ির পাশে ফসলের মাঠে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

অপরদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলী ফসল দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন। বজ্রপাতে তিনি মাঠেই মারা যান। পরে লোকজন মাঠে ইলিয়াসের লাশ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)