❒ যশোরে হাজার গ্রাহকের মানববন্ধনে বক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (পি এল সি)- চলমান অনিশ্চয়তা, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও বিভিন্ন বিতর্কের প্রেক্ষাপটে যশোরে বিশাল মানববন্ধন ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত । ছবি: ধ্রুব নিউজ
দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (পি এল সি)- চলমান অনিশ্চয়তা, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও বিভিন্ন বিতর্কের প্রেক্ষাপটে যশোরে বিশাল মানববন্ধন ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে ) সকাল ১০টায় আর এন রোডে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ব্রাঞ্চের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাজার হাজার গ্রাহক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়—এটি দেশের কোটি কোটি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাধারণ মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি ও ব্যবসায়ীরা ইসলামী ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম, মালিকানা পরিবর্তন, ঋণ কেলেঙ্কারি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি অশুভ চক্র পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ব্যাংককে দুর্বল করা ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রায় ৩ কোটি গ্রাহকের আমানত ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের গৌরব ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় গত এক দশকের বড় ঋণ, মালিকানা পরিবর্তন, আর্থিক লেনদেন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ ফরেনসিক অডিটের ওপর। গ্রাহকরা বলেন, প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা ফিরবে না।
মানববন্ধন থেকে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক -এর প্রতি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে জনগণের আমানতের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দল-মত-ক্ষমতার ঊর্ধ্বে উঠে তদন্ত করা ও শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তোলা হয়।
বক্তারা ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদার, সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে বড় গ্রাহক, প্রবাসী আমানতকারী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গ্রাহক পরামর্শ ফোরাম গঠনেরও দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে আরও বলা হয়, জনগণের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা বিদেশে পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন শরিয়াহভিত্তিক আদর্শ, নৈতিকতা ও গ্রাহকসেবার মান পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
গ্রাহকরা দাবি করেন, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ও কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করতে হবে, যাতে গুজব ও বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে। একই সঙ্গে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থনীতিবিদ, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারে একটি জাতীয় রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, প্রবাসী আয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
ধ্রুব/এস.আই