Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে রামপালে

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে সরকার

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল,২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল,২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে সরকার

ছবি: প্রতীকী

মার্চ মাসের শুরুতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পাঠানো এক চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক, ডাম্পার এবং এক্সকাভেটরের ওপর কাস্টমস ডিউটি ​​ও সম্পূরক শুল্ক প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত যানবাহনের ওপর আরোপিত শুল্কের চেয়েও কমিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির বহুমুখীকরণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটের রামপালে দেশের বৃহত্তম ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। 

• বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানি বাড়াতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার

• বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ির চেয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর বেশি কর আরোপ করা হয়

• জ্বালানির উচ্চমূল্য বৈদ্যুতিক পরিবহনের দিকে ঝোঁক বাড়াচ্ছে

• খসড়া নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০% বৈদ্যুতিক গাড়ির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে

• প্রণোদনার মধ্যে রয়েছে কর ছাড়, অর্থায়ন এবং নিবন্ধন ফি হ্রাস

• এর ব্যবহার ধীরগতিতে চলছে; স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়ার জন্য শিল্পখাতের আহ্বান

ক্রমাগত জ্বালানি সংকট এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের মুখে, সরকার বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) আমদানির ওপর উল্লেখযোগ্য শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাবের মাধ্যমে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক পরিবহনে, এর ব্যবহার ত্বরান্বিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

মার্চের শুরুতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেওয়া এক চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক, ডাম্পার এবং এক্সকাভেটরের ওপর কাস্টমস ডিউটি ​​ও সম্পূরক শুল্ক প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত যানবাহনের ওপর আরোপিত শুল্কের চেয়েও কমিয়ে আনার সুপারিশ করেছে।

সর্বশেষ তথ্যের জন্য, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে পরিচালন ব্যয় হ্রাস করা এবং একই সাথে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে, আর সেই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ যখন হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই এই প্রস্তাবটি এসেছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য ইতিমধ্যেই উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ব্যবসা ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, “বর্তমান শুল্ক কাঠামো বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করছে। জ্বালানিচালিত গাড়ির তুলনায় বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়, যা এমন এক সময়ে হিতে বিপরীত হচ্ছে যখন আমরা জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে এবং জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রচলিত গাড়িগুলোকে পর্যায়ক্রমে বাদ দিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানিকে উৎসাহিত করতে চায়।

বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য কর বাধা

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রচলিত ডিজেল বা পেট্রোলচালিত বাস আমদানিতে প্রায় ৩৯.৭৫% শুল্ক আরোপ করা হয়, যেখানে একটি বৈদ্যুতিক বাসের ক্ষেত্রে প্রায় ৯৩.১৬% শুল্ক দিতে হয়। একইভাবে, জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত ট্রাকের ওপর ৩৯.৭৫% শুল্ক আরোপ করা হয়, যেখানে বৈদ্যুতিক ট্রাকের ক্ষেত্রে এই হার ৬১.৮০%।

অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রেও এই ব্যবধান বিদ্যমান। প্রচলিত ডাম্পার ও টিপারের ৪৫.৪৫% এর তুলনায় বৈদ্যুতিক ডাম্পার ও টিপারের উপর ৬১.৮০% কর ধার্য করা হয়, অন্যদিকে জ্বালানি-চালিত এক্সকাভেটরের ২৮.৭৩% এর তুলনায় বৈদ্যুতিক এক্সকাভেটরের উপর ৯৩.১৬% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির দীর্ঘমেয়াদী ব্যয়-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের ভারসাম্যহীনতা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বহরে স্থানান্তরিত হতে নিরুৎসাহিত করেছে। তারা আরও যোগ করেন যে, যদিও বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রাথমিক খরচ বেশি, তবে সময়ের সাথে সাথে এগুলো জ্বালানি এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

ভার এবং রাস্তার অবস্থার উপর নির্ভর করে, একটি সাধারণ ডিজেল-চালিত ভারী ট্রাক প্রতি ১০০ কিলোমিটারে ২৫ থেকে ৪০ লিটার জ্বালানি খরচ করে। ডিজেলের দাম অস্থির থাকায় পরিবহন পরিচালনাকারীদের ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর বিপরীতে, বিদ্যুতের ট্যারিফ এবং ব্যবহারের দক্ষতার উপর নির্ভর করে বৈদ্যুতিক ট্রাক ৪০-৬০% পর্যন্ত জ্বালানি খরচ কমাতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো এখনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআর-এর এক কর্মকর্তা বলেন, “সরকার পরিবেশবান্ধব যানবাহনের প্রসারে আগ্রহী। তবে, যেহেতু নীতিমালাটি এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে, তাই এতে আরও সংশোধন হতে পারে। কিছু প্রস্তাব যোগ করা হতে পারে, অন্যগুলো পরিমার্জন করা হতে পারে।”

খসড়া নীতিতে সরকারি যানবাহন বহরে ৩০% বৈদ্যুতিক গাড়ির লক্ষ্যমাত্রা

শুল্ক হ্রাসের এই প্রস্তাবটি ‘বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্প উন্নয়ন নীতি ২০২৫’-এর খসড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি ও কর্পোরেট যানবাহন বহরের অন্তত ৩০% বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

খসড়া নীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আমদানি শুল্ক ৩৭%-এর নিচে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০৩০ সাল পর্যন্ত সব ধরনের বৈদ্যুতিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং ফিটনেস সার্টিফিকেশনের ওপর কর মওকুফের কথাও বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনার অধীনে রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০% পর্যন্ত কমানো হতে পারে।

এছাড়াও, ক্রেতারা গাড়ির মূল্যের ৬০% পর্যন্ত ব্যাংক থেকে অর্থায়ন পেতে পারেন, যা আট বছরে পরিশোধযোগ্য। এই প্রণোদনাটি ব্যবসা ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের জন্য এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই পরিকল্পনাটি পুরোনো জ্বালানিচালিত যানবাহন, বিশেষ করে গণপরিবহন এবং লজিস্টিকস খাতের যানবাহন প্রতিস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের অক্টোবরে ‘বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্প উন্নয়ন নীতি’র খসড়া প্রণয়ন করেছিল, যেখানে যানবাহনের নির্গমন কমাতে পরিবেশবান্ধব পরিবহনের দিকে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

ইভি গ্রহণে পিছিয়ে থাকা

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার মতে, ২০২৫ সালের মধ্যে ইভি বিক্রি ২০ মিলিয়ন ইউনিট অতিক্রম করবে, যা বছরে ২০% এর বেশি হারে বৃদ্ধি পাবে।

চীনে, মোট যানবাহন নিবন্ধনের ১২% এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে গাড়ি বিক্রির প্রায় অর্ধেকই হলো ইভি। ইভি শিল্পে বিশ্বসেরা দেশ চীন গত বছর জ্বালানি আমদানির খরচ ১০% কমিয়েছে।

ইভি গ্রহণকে ত্বরান্বিত করতে এবং তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে ভারত ও ভিয়েতনাম কর ছাড়, ভর্তুকি এবং স্থানীয় উৎপাদনে সহায়তাসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রণোদনা চালু করেছে।

তবে বাংলাদেশে এর গ্রহণ এখনও ধীরগতিতে চলছে। এনবিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছর ২৫-এ ১৭৮টি এবং অর্থবছর ২৬-এর প্রথমার্ধে ৮২টি ইভি আমদানি করা হয়েছিল। ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস সংগ্রহের একটি পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানালেও আমদানির চেয়ে স্থানীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, "বিশ্ব বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে এগোচ্ছে এবং বাংলাদেশকেও তা অনুসরণ করতে হবে। তবে আমদানির চেয়ে স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজনকে কর প্রণোদনার মাধ্যমে বেশি উৎসাহিত করা উচিত।"

তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি কোম্পানি ইতোমধ্যে ইভি সংযোজন ও উৎপাদনে বিনিয়োগ করেছে, যা প্রায়শই বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, "আমরা যদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করি এবং এই বিনিয়োগগুলোকে সুরক্ষা দিই, তাহলে এই খাতটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং পশ্চাৎসংযোগ শিল্প গড়ে তুলতে পারবে।"

দেশের অন্যতম অগ্রণী ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চট্টগ্রামের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০০ একর জমির ওপর ১,৪৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি কারখানার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে। তবে গ্যাস সংযোগে বিলম্বের কারণে এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবির বলেন, আমদানি করা যন্ত্রাংশের ওপর উচ্চ শুল্ক, যা বর্তমানে প্রায় ৬১ শতাংশ, একটি বড় বাধা। তিনি বলেন, "একটি প্রতিযোগিতামূলক ইভি শিল্প গড়ে তুলতে হলে, সম্পূর্ণ তৈরি গাড়ির চেয়ে যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক অবশ্যই কম হতে হবে। রপ্তানি প্রণোদনাও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে।"

এদিকে, রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে সংযোজন বা উৎপাদনের সুযোগ অন্বেষণ করতে চীনের বিওয়াইডি-র সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা বৈশ্বিক ইভি সংস্থাগুলোর ক্রমবর্ধমান আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

রামপালে দেশের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির বহুমুখীকরণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটের রামপালে দেশের বৃহত্তম ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। 

টিবিএসের হাতে আসা প্রকল্প প্রস্তাব অনুসারে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। ৩৭৫.৯৪ কোটি টাকা আসবে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে। 

২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রটিতে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের প্রস্তাবিত ট্যারিফ ৬.১৮ টাকা। 

ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। 

বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১২ সালে বাগেরহাট জেলার রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিপিডিবি। জমিটি দুটি ব্লকে বিভক্ত—ব্লক-এ ও ব্লক-বি। এর মধ্যে ব্লক-এ অংশে বাংলাদেশ-ভারত কয়লাভিত্তিক মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। ব্লক-বি অংশটি বর্তমানে বিপিডিবির অধীনে রয়েছে, যেখানে ভূমি উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে যৌথ উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে বিদ্যুতের বিশেষ বিধান আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০২১) বাতিল হলে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়। 

পরে ২০২৫ সালে মে মাসে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি দ্বারা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। তাতে ৬৮৫ একর জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকায় ভূমি উন্নয়নের অতিরিক্ত প্রয়োজন নেই, ফলে নির্মাণ ব্যয় কম হবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের ইউনিট খরচ কমবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে, যা সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।

এদিকে গত ডিসেম্বরে ফেনীর সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অভ বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। 

বিপিডিবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রামপাল প্রকল্পের তুলনায় সোনাগাজী প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি দক্ষ হলেও এর নির্মাণ ব্যয় ও ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। সোনাগাজী প্রকল্পের ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ শতাংশ, যা রামপাল প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ। 

রামপাল প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াটে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫.৬৬ কোটি টাকা। সোনাগাজী প্রকল্পে এই খরচ ৬.২৭ কোটি টাকা। অবকাঠামো নির্মাণ খাতে সোনাগাজীতে ব্যয় রামপাল প্রকল্পের দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণেও সোনাগাজী প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

ব্যয়বহুল নির্মাণ খরচের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্যের ওপর। রামপাল প্রকল্প থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬.১৮ টাকায় কেনার প্রস্তাব থাকলেও সোনাগাজী প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই ট্যারিফ ধরা হয়েছে ৮.৮৭ টাকা। অর্থাৎ সোনাগাজীর বিদ্যুতের দাম রামপালের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। সোনাগাজী প্রকল্প থেকে বার্ষিক ৩৮১.৫৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রামপালে এ লক্ষ্যমাত্রা ৩৫২.৪১ কোটি টাকা। 

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী ডিজিটাল শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ, আইসিটি খাতে অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের ফলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। 

ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান ২০২৩ অনুযায়ী, ২০৩০, ২০৪১ ও ২০৫০ সালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা যথাক্রমে ২৯ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াট, ৫৮ হাজার ৫৯৭ মেগাওয়াট ও ৯৬ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। অথচ এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট (২৩ জুলাই ২০২৫)। 

দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এলেও উৎপাদন সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করেছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ মোট উৎপাদনের তুলনায় এখনও খুবই সীমিত। ফলে এই খাতে দ্রুত বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা উইং-এর অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ বলেন, 'রামপাল এলাকায় প্রস্তাবিত ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।' 

প্রকল্পটির প্রস্তাব ইতিমধ্যে ডিপিপি আকারে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। 

নূর আহমেন বলেন, 'সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। সেই তুলনায় ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পটি প্রায় দ্বিগুণ বড়, যা দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে। এই প্রকল্পের ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় কম, যা এটিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।'

ধ্রুব/এস.আই 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)