নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের একটি গোডাউন থেকে জব্দকৃত ৭৭টি নতুন আমেরিকান মোটরসাইকেল। ছবি: ধ্রুব রিপোর্ট
বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, কিন্তু ভেতরে সারিবদ্ধভাবে সাজানো কোটি টাকার দামী মোটরসাইকেল। তাও আবার বিদেশি ‘ইউএন’ ব্র্যান্ডের! যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের একটি সাধারণ বাড়িতে এমন বিলাসবহুল ৭৭টি নতুন বাইকের সন্ধান আগেই পেয়েছিল প্রশাসন। প্রথম দফায় সময় নিয়েছিলেন, কিন্তু আজ দ্বিতীয় দফাতেও মিলল না কোনো বৈধতার হদিস। অবশেষে মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোহাইব হাসান আকন্দ।
কয়েকদিন আগে, ভ্রাম্যমান আদালত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২৪২ নম্বর বাড়িতে প্রথম হানা দেয়। তখন বিপুল সংখ্যক দামী আমেরিকান 'ইউএন' কোম্পানির মোটরসাইকেল দেখে সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখতে চায় আদালত। কিন্তু গোডাউন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়ে আদালতের কাছে ৩ দিনের সময় প্রার্থনা করেন।
রোববার দুপুরে ওই বাড়িতে পুনরায় অভিযান চালায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোহাইব হাসান আকন্দের নেতেৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সঙ্গে ছিল ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল। এবারো গোডাউনে থাকা ঝকঝকে নতুন ৭৭টি আমেরিকান মোটরসাইকেলের বৈধ কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি গোডাউন মালিক হাফিজুর রহমান শিলু। এদিকে, বাইকগুলোর মূল মালিক হিসেবে পরিচিত আবু সাঈদ সাবু ‘অসুস্থতার’ অজুহাতে ঘটনাস্থলে আসেননি। তৎক্ষণাৎ কড়া নির্দেশ জারি করেন ম্যাজিস্ট্রেট সোহাইব হাসান আকন্দ। কাগজপত্রহীন এই বিশাল সমারোহ দেখে পুরো গোডাউনটি সিলগালা করে দেন তিনি।
জানানো হয় আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই দামী বাইকগুলোর ‘জন্মপরিচয়’ বা বৈধ আমদানির প্রমাণ দিতে না পারলে সেগুলো সরাসরি সরকারি হেফাজতে নেওয়া হবে। বিলাসবহুল এই বাইকগুলো পাচার হয়ে এসেছে নাকি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হয়েছে—সেই রহস্য এখনো অজানা।