❒ স্ত্রী সামিরাসহ আসামি ১১
ধ্রুব ডেস্ক
চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও সামিরা হক। ছবি: সংগৃহীত
গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক নতুন দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত বছর ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো: জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদিপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী, বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছেলে শাহ সালমানের সাথে দেখা করতে যান। তারা ঘরে গিয়ে দেখেন, সালমান নিথর অবস্থায় শয়নকক্ষে, আর কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য চিৎকার করেন।
পথে তারা গলায় দড়ির দাগ এবং নীলচে দাগ দেখতে পান। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক জানান, সালমান অনেক আগেই মারা গেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সালমানের বাবা মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দরখাস্ত দেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন করেন। সালমানের বাবার মৃত্যুর পর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বোনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন।
মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র : বাসস